বিশ্বমানবতার জন্য মহান আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত জীবনপদ্ধতির নাম ইসলাম।
ইসলাম ও নৈতিকতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আদম (আ) থেকে শুরু করে সকল নবি-রাসুলগণ নৈতিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। আর সর্বশেষ রাসুল (স) নৈতিক চরিত্রের পূর্ণতাদান করেছেন। কিয়ামতের দিন দুনিয়ার ধন-সম্পদ কাজে আসবে না। কাজে আসবে নৈতিক চরিত্র। সুতরাং, ইসলাম ও নৈতিক চরিত্র একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
সানোয়ার সাহেবের অর্জিত শিক্ষা হলো- ইসলামি শিক্ষা, যার মূল উৎস কুরআন এবং হাদিস। ইসলামি নীতিমালা, অনুশাসন ও বিধি মোতাবেক মানুষের জ্ঞান, কর্মদক্ষতা, চরিত্র এবং মানসিক শক্তি বিকাশের প্রয়াসকে ইসলামি শিক্ষা বলে। এ শিক্ষা কুরআন, সুন্নাহ, তাওহিদ ও রিসালাতভিত্তিক। এ শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মানুষের চরিত্র আচরণ ও চিন্তাশক্তি এমনভাবে গড়ে ওঠে যে, জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে তিনি ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করেন, যেমনটি জনাব সানোয়ারের কর্মকাণ্ডে লক্ষ করা যায়।
জনাব সানোয়ার সামগ্রিক জীবন পরিচালনায় আল্লাহ ও রাসুল (স)-এর বিধান মেনে চলেন। কর্মরত প্রতিষ্ঠানে তিনি সততা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। তাছাড়া নামাজ, রোজা, হালাল-উপার্জনের ক্ষেত্রে তিনি সচেতন। আর তার এ বৈশিষ্ট্যগুলো ইসলামি শিক্ষা থেকে উৎসারিত। কারণ এ শিক্ষা মানুষের চরিত্র, কর্মদক্ষতা এবং আচরণকে পরিশীলিত ও পরিমার্জিত করে। ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দিয়ে এ শিক্ষাব্যবস্থা মানুষের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডে ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতিফলন ঘটায়। সুতরাং বলা যায়, সানোয়ার সাহেবের অর্জিত শিক্ষা অর্থাৎ ইসলাম হলো একটি আদর্শ ও নৈতিকতাসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা।
জনাব সানোয়ার সাহেব ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী সকল কাজ পরিচালনা করছেন, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কার্যকর সঠিক ও সর্বোত্তম পন্থা।
একজন সত্যিকার মুসলমানের প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য থাকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আর আল্লাহর নির্ধারিত পন্থায় জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত জ্ঞানার্জনের জন্য ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন।
জনাব সানোয়ার আল্লাহ ও রাসুল (স) এর পূর্ণ আনুগত্য করছেন। তিনি প্রতিটি কাজ ইসলামি বিধান অনুযায়ী করার চেষ্টা করছেন। তার এ কাজগুলোতে মহান আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করল, সেই সাফল্য লাভ করল।' (সুরা আশ-শামস-৯) আবার হালাল রুজি অর্জনের ক্ষেত্রে মহানবি (স) বলেছেন, 'হালাল রুজি অন্বেষণ ফরজের পরেও একটি ফরজ'। (বায়হাকি) তাছাড়া নামাজ, রোজা, প্রভৃতি ইসলামের মৌলিক ইবাদত। এগুলো যথাযথভাবে আদায় করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে মানুষকে দূরে রাখবে।' (সুরা আলে ইমরান-১১০)
জনাব সানোয়ার একজন সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি। তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, তাঁর অনুসৃত কর্মপন্থা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!